certifired_img

Books and Documents

Bangla Section (15 Jul 2019 NewAgeIslam.Com)



With Our 7th Century Mind-Set, Can We Muslims Co-Exist With Other Religious Communities? সপ্তম শতাব্দীর মানসিকতা নিয়ে আমরা মুসলমানেরা পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে কী সক্ষম?



Sultan Shahin, Founding Editor, New Age Islam

 

সুলতান শাহীন,ফাউন্ডিং এডিটর,নিউএজ ইসলাম

এই নিবন্ধটি রায়হান নিযামি সাহেবের সমালোচনার সাথে সম্পর্কিত যেটা তিনি অন্য কোন প্রবন্ধের উপর করেছিলেন। তাঁর সেই অমূল্য উপলব্ধি প্রবন্ধের শেষে সংযোজিত হল। জনাব রায়হান নিযামী সাহেবের দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ কেননা তা অধিকাংশ সময় মুসলমানদের ধৈর্যহীনতা, অত্যাচার প্রবনতা, অপরিচিতকে ঘৃণা, নিজেকে যাচাই করার অক্ষমতা ইত্যাদি অবস্থানগুলির প্রতিনিধিত্ব করে।

যতদূর পর্যেন্ত বজরংদলের কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক জনাব নিযামী যাকে "ভাগওয়া ব্রিগেড" হিসাবে বিশ্লেষণ করেছেন। যে কোন ব্যক্তি তাদের চোখ থেকে ঘৃণার যে লাভা বের হচ্ছে তা দেখেই কল্পনা করতে পারেন। মিডিয়ার কথা ছেড়েই দিন বরং শঙ্করাচার্য অধ্যক্ষ, নন্দ মহরাজ, স্বামী চক্রপানি মহারাজ, অখিল ভারত হিন্দুমহাসভার সভাপতি আত্ম শর্মা, কনভেনর প্রগতিশিল মোর্চার মত সক্রিয় হিন্দু সংগঠন এবং অনেক অন্য নেতাগণও তাদের কর্মকান্ডের বিপদ সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে উঠেছেন। সাথে সাথে এধরণের সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী তুলেছেন, যারা দেশে শান্তির পরিবেশ নষ্ট করছে। পুলিশ পূর্বেই এফ.আই.আর. নথিভুক্ত করেছেন এবং বজরং দলের একজন নেতাকে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর দায়ে গ্রেফতারও করেছেন।

কিন্তু অপরদিকে মুসলিম ওলামা, নেতৃবর্গ, বুদ্ধিজীবী এবং সাংবাদিকগণ ইন্ডিয়ান মুজাহিদীন এর সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এই সন্ত্রাসবাদীরা এখন জায়েশ এর সাথে মিলে হিন্দুস্থানকে একটি ইসলামী দেশে পরিবর্তিত করার এবং সাথে সাথে এখানকার অন্য ধর্মাবলম্বীদের জোরপূর্বক মুসলমান করার জন্য এখানকার মুসলমানদের আহ্বান করছে। এই সন্ত্রাসীদের দাবী হিন্দুস্থানের বাসিন্দাগণ হয় ইসলাম গ্রহণ করুক অথবা জিজিয়া কর প্রদান করুক অথবা মুণ্ডচ্ছেদ করানোর জন্যে প্রস্তুত থাকুক। কিন্তু মুসলিমদের তরফে সম্পূর্ণ নিরবতা কুরআন ও হাদীসের রেফারেন্সগুলি হাজার বৎসরের পূরানো সাম্রাজ্যের এই সরকারী ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। এঘটনা পূর্বেও ঘটেছিল, এরকমই মৌনতা- যখন ইন্ডিয়ান মুজাহিদীন ৬ই মে ২০০৮ খৃষ্টাব্দে তাদের ইমেলে নিম্নলিখিত কুরআনের আয়াত এবং বুখারী মুসলিমের হাদীস সম্বলিত রেফারেন্সসহ মুসলমানদের প্রতি জেহাদের ডাক দিয়েছিল।

১। (হে কাফেরগ্ণ!) যদি তোমরা নির্ণয় চাও তাহলে নির্ণয় এসে গেছে। আর যদি তোমরা মেনে নাও তাহলে তোমাদের পক্ষে মঙ্গল। আর যদি তোমরা পুনরায় তাই কর তাহলে আমরাও আবার তাই করব আর তোমাদের সেনা তোমাদের কোন কাজে আসবে না তারা সংখ্যায় যতই বেশী হোক। আর নিঃসন্দেহে আল্লাহ মোমেনদের সাথে আছেন। (সূরাহ আনফাল, আয়াত ১৭)

২। নিঃসন্দেহে তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তাঁর সাথীরা সর্বোত্তম নিদর্শন, যখন তারা তাদের সাথীদের বলছেন- আমরা তোমাদের আর ওই সমস্ত প্রতিমাদের প্রতি কোন সম্পর্ক রাখিনা যাদের তোমরা আল্লাহ ব্যতিত পূজা করো। আমরা তোমাদেরকে প্রকাশ্যে অস্বীকার করছি। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা ও আত্মম্ভরিতা চিরকালের জন্য প্রকাশ্যে এসেছে এমনকি তোমরা এক আল্লাহকে বিশ্বাস করলেও। (সূরাহ আল মুমতাহিনা, আয়াত-৪)

৩। হে ঈমানদারেরা! তোমাদের আশেপাশে যেসব কাফের রয়েছে তাদের সাথে যুদ্ধ কর। তারা যেন তোমাদের মধ্যে কাঠোরতা দেখতে পায়। আর জেনে রাখ আল্লাহকে তাদের সাথেই আছেন। (সূরাহ তওবা, আয়াত-১২৩)

৪। শিঘ্রই এই দল পরাজিত হবে এবং পিছন ফিরে পলায়ন করবে। (সূরাহ আল ক্বামার, আয়াত-৪৫)

৫। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন - রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন- আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, আমি ওই লোকদের সাথে ততক্ষণ যুদ্ধ করি যতক্ষণ না তারা স্বাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং আমার উপরে আর ওই জিনিষের উপর ঈমান আনে যা আমি নিয়ে এসেছি। এই কাজটা যখন তারা সম্পূর্ণ করে ফেলবে তখন আমার থেকে জান-মান বাঁচাতে পারবে। অথবা ওদের উপর কোন সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেবে। আর ওদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর নিকট। (বুখারী মুসলমিম)

খোদা জানেন আমরা মুসলমানরা কোন যুগে আছি হয়ত সপ্তম শতাব্দীতে... এখনও আমরা বদর আর ওহোদের লড়াই লড়ছি... নিঃসন্দেহে এই সন্ত্রাসবাদীরা সেই লড়াইয়ের রেফারেন্স দিয়ে আমাদেরকে স্মরণ করাতে চাইছে যে, তখন কিভাবে খোদা আমাদেরকে সাহায্য করেছিলেন। এখন প্রশ্ন এটাই যে, আমরা সপ্তম শতাব্দীর মুসলমান মাননিসকতা নিয়ে একাবিংশ শতাব্দীর অন্যান্য কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে জীবনযাপন করার যোগ্য? পৃথিবীটাকে এক আন্তর্জাতিক আখড়া মনে করে কুস্তি লড়ার কথা ভাবা কি উচিৎ? হয়ত দুনিয়ার কোন এক অজানা কোনে, অথবা প্রত্যেক দেশের টুকরো বস্তিতে? আমরা কি ইউরোপ আর আমেরিকার দক্ষিণপন্থি দলগুলির উপর দোষারোপ করতে পারি যারা নিজেদের দেশে মুসলিমদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার দাবী তুলছেন? আমরা কি হিন্দুস্তানের অমুসলিমদের দোষ দিতে পারি কেননা তারা তাদের এলাকায় আমাদের ঘর ভাড়া দেয়না অথবা তারা আমাদের নিকট থেকে ঘর ক্রয় করতে চায়না?

সন্ত্রাসবাদীরা যখন তাদের সন্ত্রাস এর বৈধতার স্বপক্ষে কুরআনের আয়াত ও রসূলের হাদীস ব্যবহার করে তখন মুসলমান বিশেষ করে ওলামা সম্প্রদায় এর উপর অপরিহার্য ভাবে দায়িত্ব এসে যায় যে, তাঁরা ওই যুদ্ধ সংক্রান্ত কুরআনের আয়াত ও হাদীসগুলির তার প্রেক্ষাপট ও সঠিক অর্থে প্রয়োগ করে মানুষকে বলা যে, এর সম্পর্ক সপ্তম শতাব্দীর যুদ্ধের সঙ্গে ছিল, বর্তমান একাবিংশ শতাব্দীতে এগুলো আমাদের উপর প্রযোজ্য নয়। এখন আমাদের উপর যুদ্ধ সংক্রান্ত আয়াতগুলির নির্দেশ অবশিষ্ট নেই। আমাদের ওলামা সম্প্রদায় কখনও এমন করেছেন কী? আসলে আমি সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রখ্যাত যুক্তিবাদী আলেম ডঃ তাহেরুল কাদেরী সাহেবকে ইন্টার ন্যাশনাল সূফী সন্মেমনে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, এই আয়াত যা আমাদের লড়ার নির্দেশ দেয় এখনও কি আমাদের জন্য যথাযথ? তাঁর বিষ্ময়কর জবাব কুরআনে কোন আয়াতই অসহনীয় নেই আর এগুলো আজও আমাদের জন্য সমান উপযোগী।

হিন্দুস্থানই একমাত্র অমুসলিম সংখ্যাধিক্য দেশ। যে দেশ মুসলিমদের ধর্মীয় আবেগকে সন্মান করে তাদের নিজস্ব মুসলিম পার্সোনাল ল অনুযায়ী জীবন-যাপন করার আদেশ দেয় যদিও তা বাতিল বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের বিরুদ্ধে হোক না কেন?

আপনি কি কখন কোন মুসলিমকে যারা আমরা মানবধিকার আইনের সাহায্যে উপকৃত হই এর জন্য কখনও কি চিন্তাভাবনা বা মতবিনিময় করতে দেখেছেন? হ্যাঁ, এদেশে কিছু সমস্যা আছে কিন্তু তা মুসলিম সংখ্যাধিক্য দেশ বিশেষ করে যারা নিজেদেরকে ইসলামী দেশ বলে থাকে, সেখানকার সংখ্যামঘুদের সমস্যার তুলনায় হিন্দুস্থানের সংখ্যামঘূরা যে সমস্যার সন্মূখীন তা কিছুই নয়। এসব স্বত্বেও আমাদের হিন্দুধর্ম গ্রহণ করতে জোর জবরদস্তি করা হচ্ছে না। যেমন বাংলা দেশ ও পাকিস্তানে হিন্দু ধর্মের মানুষের উপর জবরদস্তি করা হচ্ছে। সৌদি আরবও অমুসলিমদের তাদের নিজেদের উপাসনাস্থল তৈরী করার অনুমতি দেয় না। এটা কেবল মানবাধিকারের চার্টার নয় বরং কুরআন মজিদ যাকে মুসলমানেরা অনুসরণ করে তারও বিরুদ্ধে।

কুরআন মজিদে মুসলমানদের এসমস্ত উপাসনাস্থল সেনেগগ, গীর্জা, খানকাহ ইত্যাদির রক্ষা করার জন্য লড়ার কথা বলা হয়েছিল যেখানে আল্লাহ নামের যেকের হয়।

"যাদেরকে তাদের ঘর থেকে অকারণে বের করে দেওয়া হয়েছে। কেবলমাত্র এই জন্য যে তারা বলত 'আমাদের প্রভূ আল্লাহ'। আর আল্লাহ যদি একদল মানুষকে আরেক দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন তাহলে আশ্রম, গীর্জা, সিনাগগ ও মসজিদসমূহ সেখানে আল্লাহর নাম অধিক পরিমানে স্মরণ করা হয়, তা ভেঙে ফেলা হত। আর আল্লাহ অবশ্যই তাদের সহায়তা করবেন যারা আল্লাহকে সহায়তা করে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ বড়ই শক্তিমান। পরাক্রমশালী। (সূরাহ আল-হাজ্ব-আয়াত-৪০)

আপনি এখানে দেখতে পারেন যে, খোদা সমস্ত মোযহাবি ব্রাদারির উপসনাস্থাল, খানকাহ, গীর্জা, সিনাগগ, মসজিদ ইত্যদীর সংরক্ষন করেছেন। কিন্ত আপনি কী কখনও সৌদি আরব বা পাকিস্থান অথবা বাংলাদেশ বা অন্য কোন মুসলিম দেশ যেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন করা হয় তার জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতা বা কুরআনের নির্দেশিত আয়াতে তাদের উপসনাস্থলের সংরক্ষণের কথা বলতে শুনেছেন কি ? ইউ.এন.ওর. মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চার্টার এর কথা বাদ দিন যদি মুসলমানরা কুরআনের অনুসরন করত তাহলে আমরা সৌদি প্রশাসনের বিরুদ্ধে জেহাদ করতাম যাতে অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়গনও তাদের নিজস্ব উপাসনাস্থল তৈরী করার অনুমতি পেতে পারে । এভাবেই পাকিস্তানও বাংলাদেশের বিরুধে জেহাদ করতাম যাতে হিন্দু, আহমদী, সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন বন্ধ করা যায়।

উর্দূ থেকে বাংলা অনুবাদ

ওয়ালিউর রহমান চাঁদপুরী

URL for English article: http://www.newageislam.com/from-the-desk-of-editor/with-our-7th-century-mind-set,-can-we-muslims-co-exist-with-other-religious-communities-in-any-part-of-the-world?/d/107421

URL: http://newageislam.com/bangla-section/sultan-shahin,-founding-editor,-new-age-islam/with-our-7th-century-mind-set,-can-we-muslims-co-exist-with-other-religious-communities?--সপ্তম-শতাব্দীর-মানসিকতা-নিয়ে-আমরা-মুসলমানেরা-পৃথিবীর-অন্যান্য-ধর্মীয়-সম্প্রদায়ের-সাথে-শান্তিপূর্ণ-সহাবস্থান-করতে-কী-সক্ষম?/d/119185

New Age Islam, Islam Online, Islamic Website, African Muslim News, Arab World News, South Asia News, Indian Muslim News, World Muslim News, Women in Islam, Islamic Feminism, Arab Women, Women In Arab, Islamophobia in America, Muslim Women in West, Islam Women and Feminism





TOTAL COMMENTS:-    


Compose Your Comments here:
Name
Email (Not to be published)
Comments
Fill the text
 
Disclaimer: The opinions expressed in the articles and comments are the opinions of the authors and do not necessarily reflect that of NewAgeIslam.com.

Content